![]() |
| Add caption |
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র অধ্যাপক, কবি ও ঔপন্যাসিক আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস। প্রথম প্রকাশ ১৯৬১ সালে। প্রকাশক নওরোজ কিতাবিস্তান। নওরোজের পর মুক্তধারা সাতবার ছেপেছে। অনেক ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। ১৯৭৭ সালে বুলগেরীয় ভাষায় অনুবাদ হয়েছে পোত্রেৎ নমের দুবাতসাৎ ত্রি নামে। সুভাষ দত্তের পরিচালনায় সিনেমা হয়েছে 'বসুন্ধরা' নামে। সিনেমাটি সাতটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে। ওপরের তথ্যগুলো বলে যে তেইশ নম্বর তৈলচিত্র বাংলা সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য সার্থক উপন্যাস। উপন্যাসের লেখক আলাউদ্দিন আল আজাদ লেখক হিসেবে যত বড়, সমালোচক হিসেবেও কম নন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে পেশাদারিত্ব এবং বাংলা সমালোচনা সাহিত্যে তাঁর সৃষ্ট গ্রন্থগুলো যোগ্যতার সঙ্গে এ কথার সত্যতা প্রতিপাদন করে। এ গ্রন্থের সৃজন প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ গঠনে-বুননে-বক্তব্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লেখকের এ তাত্তি্বক ও সমালোচক সত্তার প্রকাশ রয়েছে।
সমালোচক বা তাত্তি্বক হিসেবে তাঁর এ সচেতনতা পুরোটাই এ উপন্যাসের জন্য কল্যাণকর হয়েছে বলে অবশ্য আমার মনে হয় না। গঠনে উপন্যাসটি শঁহংঃষবৎৎড়সধহ ধারার। জার্মান ভাষায় শঁহংঃষবৎ অর্থ শিল্প এবং ৎড়সধহ অর্থ উপন্যাস। মোট কথায় একজন শিল্পীকে কেন্দ্রে রেখে যে উপন্যাস গড়ে ওঠে তাঁকে শঁহংঃষবৎৎড়সধহ বলা যায়। তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসে জাহেদ সেই শিল্পী আর তাঁর শিল্পী হয়ে ওঠার গল্পই তেইশ নম্বর তৈলচিত্র। গল্পের কথন ধারায় ভষধংয নধপশ ও ভষধংয ভড়ৎধিৎফ কারিগরির ব্যবহার আছে। মূলত কাহিনীর উন্মোচন কিছুটা সড়হঃধমব ধরনের। জাহেদের চিত্র 'মাদার আর্থ' করাচিতে এক আন্তর্জাতিক একজিবিশনে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। এ খবর দিয়ে উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদের যাত্রা। আর সাত দিনের সেই একজিবিশনের চার দিনের মাথায়ই জাহেদ স্ত্রী বিরহে ব্যাকুল হয়ে ঢাকায় ফিরে এসেছে এবং দরজার কড়া নাড়ার আগেই দরজা খুলে তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে 'সরুপাড় সালোয়ার-কামিজ পরা' তার স্ত্রী ছবি_এ বর্ণনা দিয়ে উপন্যাসের শেষ পরিচ্ছেদের ইতি।
চার দিনের এ-মাথায় ও-মাথায় এভাবে উপন্যাসের শুরু ও শেষ দেখানো হলেও এরই মধ্যে আটকানো হয়েছে জাহেদের শিল্পী জীবনের প্রায় পুরোটা। ফলে বর্ণনায় মন্তাজ ধারাটি সফল হোক আর না হোক, উপন্যাসের প্রয়োজন মিটিয়েছে নিঃসন্দেহে। মন্তাজ ধারার স্বাভাবিকতাকে গৌণ করে বর্ণনায় চেতনার চেয়ে ঘটনার প্রবাহ বেশি। ফলে শিল্পের পরিবর্তে শিল্পীই প্রক্ষেপিত আলোর কেন্দ্রবিন্দু। সে শিল্পী জাহেদ। তার সঙ্গে একজিবিশনে অংশগ্রহণকারী আরো শিল্পী আছে। রায়হান, মুজিব ও আমেদ। আরো এক শিল্পীকে আমরা পাই। একজিজিবিশনে নয়, কাহিনীর ভেতরে। সে শিল্পী মুজতবা। এভাবে উপন্যাসের ঘটনাবলির সংগঠকদের কেন্দ্রে শক্ত পায়ে দাঁড়িয়ে আছে শিল্পী এবং শিল্পীরা। কিন্তু নাটকীয় ও রহস্যজনকভাবে এবং এমনকি হতে পারে লেখকের নিয়ন্ত্রণ-অভাবে সেই শিল্পীদের, শিল্পকে এবং তাদের শিল্পভাবনাকে নগণ্য করে দিয়ে উপন্যাসের বিষয়বস্তুর কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে বাংলা উপন্যাসের গতানুগতিক বস্তুপ্রেম। এক জোড়া যুবক-যুবতীর প্রেম। শঁহংঃষবৎৎড়সধহ ধারায় শিল্পবোধ ও শিল্পতাত্তি্বকতার যেসব প্রশ্ন উপন্যাসটির ধারণ করার কথা জাহেদের প্রেম দিয়ে গড়া উপন্যাস তার তেমন কিছুই ধারণ করে না। শিল্পতত্ত্ব বা শিল্পবোধ বিষয়ে যা কিছু বক্তব্য আছে তা সরাসরি বাক্যে বিবৃত বাণী_কখনো জাহেদের মুখ নিঃসৃত, কখনো জামিলের, কখনো-বা অন্য কারোর। অথচ শঁহংঃষবৎৎড়সধহ ধারায় কথা ছিল এগুলো বাণী না হয়ে সংকট বা প্রতীতি আকারে প্রতিভাত হবে শিল্পীর জীবনচিত্র দিয়ে।
আেরা জানােত চাইেল এখােন িকল্ক:

No comments:
Post a Comment